‘গ্রিন এনার্জি’ বা সবুজ জ্বালানির দিকে দেশগুলো দ্রুত ধাবিত হওয়ায় খাতটির জন্য অপরিহার্য এ দুই ধাতুর মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
পণ্য ও ফিউচার মার্কেট বিশেষজ্ঞ জাফর এরগেজেন জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব আরো বাড়িয়ে তুলেছে। আনাদোলু এজেন্সিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা এবং জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক দেশ তাদের জ্বালানি কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষ করে, এশিয়া ও ইউরোপের আমদানিনির্ভর দেশগুলো তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে এখন দ্রুত পরিবেশবান্ধব জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে।
সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর আগেই নবায়নযোগ্য জ্বালানির চাহিদা বেশ শক্তিশালী ছিল, তবে বর্তমানে এটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশেষ করে, চীন এ রূপান্তরে নেতৃত্ব দিচ্ছে। দেশটি পারমাণবিক ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিশাল বিনিয়োগের মাধ্যমে নিজেদের জ্বালানি খাতকে বৈচিত্র্যময় করে তুলছে।
সৌর প্যানেল ও উইন্ড টারবাইন তৈরির জন্য তামা ও রুপা খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় এ প্রযুক্তিগুলোর ব্যবহার যত বাড়ছে, ধাতু দুটির চাহিদাও তত তীব্র হচ্ছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের বিশাল বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতেও নতুন বিনিয়োগ আসছে এ খাতে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে দেশগুলো যখন জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প খুঁজছে, তখন এ ধাতুগুলোর চাহিদাও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তামা ও রুপার সংকট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দাম আরো বাড়ার জোরালো সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা।